পেশা যখন ফ্যাশন ডিজাইনিং

ফ্যাশন ডিজাইনিং সৃজনশীল শিল্পের ব্যাবহারিক শাখা। যুগ যুগ দরে সামাজিক বিবর্তনের মাধ্যমে পোশাক এবং আনুশাঙ্গিক বস্তুর পরিবর্তন আর মানুষের রুচিরসাথে সাথে পরিবর্তন হচ্ছে ফ্যাশনের ।

fashion

কর্ম ক্ষেত্রে ফ্যাশন ডিজাইনিং সবচেয়ে লাভজনক, আকর্ষণীয়, চাকচিক্যময় এবং উত্তেজনাপূর্ণ পেশা।

আপনার মধ্যে যদি সৃজনশীলতা, শৈলী এবং মৌলিকত্ব থাকে তবে ফ্যাশন ডিজাইনিং কে আজকের বিশ্বের প্রতিযোগিতা মূলক পেশার একটি বিকল্প হিসাবে নিতে পারেন। কেন পেশা হিসাবে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিবেন ? এক কথায় যশ, সম্মান, আত্মতৃপ্তি আর উচ্চ মানের বেতন কাঠামো – সবই আপনাকে নিয়ে যাবে সাফল্যর দরজায়। সুতরাং, আপনি যদি রং, আকৃতি ও ডিজাইন দিয়ে ম্যাজিক তৈরি করতে পারেন, তাহলে শুধু একটি পেশাদারী কোর্সের মাধ্যমে শুরু করতে পারেন আকর্ষণীয় এই পেশা।

শুরু করুন ধাপে ধাপে

start step by step

যোগ্যতা হতে পারে দুই ধরনের –

 

প্রাকৃতিক দক্ষতা – রঙ, নকশা আর এই দুইয়ের সৃজনশীলতা নিয়ে যারা বেড়ে উঠে,ফ্যাশন ডিজাইনিং তাদের জন্য অনেক খানি সহজ হয়ে যায়।

 

অর্জিত দক্ষতা – মান সম্পন্ন স্বীকৃত ফ্যাশন ইনস্টিটিউট থেকে কোর্স করে দক্ষতা অর্জন করা যায় এই পেশায়।

 

তবে দক্ষতা হক প্রাকৃতিক অথবা অর্জিত, পেশাদারী মনোভাব, ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা আর কঠোর পরিশ্রমই দিতে পারে সাফল্য।

সিদ্ধান্ত নিন দ্রুত

 

বিশ্বে যখন ফ্যাশান নিয়ে তোলপাড় তখন পিছিয়ে নাই আমরাও। পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের সাফল্য আর নিত্য নতুন দেশিও ফ্যাশান হাউজ এর কারনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এই পেশা। তরুণদের মধ্যে ফ্যাশন ডিজাইনিং পড়া এখন শুধু আর শখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তাই যদি ডিজাইনারই হতে চান শুরু করুন একটু আগে।

আমার জন্য ফ্যাশন ডিজাইনিং কি উপযোগী ?

think before you start

যাই করবো ভালবেসে করবো- ভেবে দেখুন তো ডিজাইনিং আপনার কেমন লাগে ? রঙ, তুলি আর সেলাইর মেশিনে আগ্রহ আছে? মার্কেটে কোন জামা দেখলে কি মনে হয় কালার টা অন্য রকম হলে ভালো হতো। কখনও কি মনের জোকে করে ফেলেছেন টি-শার্ট এর ডিজাইন। উপরের কিছু না থাক- আছে কি অদম্য ইচ্ছা?

আর এগুলো যদি থাকে আপনার ভিতরে, কে জানি আজ থেকে ৫ বছর পরে আপনার ডিজাইন করা জামা হয়ত উচ্চ দামে কিনতে হবে।

যা কখনও করবেন না

গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড, মিডিয়া, ফ্যাশান শো, তারকা খ্যাতি অথবা কোটি টাকার মালিক হওয়ার লোভে ভুলে ও আসবেন না এই পথে। ফ্যাশান ডিজাইন একধরনের শিল্প, বই মুখস্ত করে ডিজাইনার হওয়া যায়না। পড়তে গিয়ে এমন অনেক সহপাঠির সাথে পরিচয় হইছে, মনে হই নাই তারা খুব ভালো আছে।

কোথায় পড়বেন ?

 

বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ফ্যাশান বিশ্ব বিদ্যালয় এবং ইনস্টিটিউট আছে। তার মধ্যে –

  • Bangladesh University of Textiles

  • BGMEA University Of Fashion and Technology. (BUFT)

  • Shanto-mariam University of Creative Technology. (SMUCT)

  • Raffles Design Institute, Dhaka

  • National Institute of Fashion Technology (NIFT)

খরচ কেমন হবে –

 

৪ বছর মেয়াদি বি এস সি করতে গেলে খরচ সবচেয়ে বেশি যাবে BUFT তে ৫ লক্ষ টাকার উপরে সেমিসটার ফি। আরও কমে পড়তে পারবেন বাকি গুলুতে। শর্ট কোর্সে খরচ প্রতিষ্ঠান ভেদে কম বেশি হবে।

 

বৃত্তি বা উচ্চ শিক্ষা

ফ্যাশন ডিজাইনিং এ পড়া অবস্থায় যোগ্যতা ভেদে পেতে পারেন বিভিন্ন মানের বৃত্তি। প্রায় সবগুলু প্রতিষ্ঠানের সাথেই আছে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের  চুক্তি। যদি আপনার প্রতিভা থাকে তাহলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়া খুব একটা কঠিন না।বাংলাদেশের অনেক ডিজাইনারই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করছে।

আজ এই পর্যন্তই, ফ্যাশন ডিজাইনিং এর খুঁটি নাটি নিয়ে আবারো লিখব এই প্রত্যাশায়। সবাই দোয়া করবেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.