সাস্টেইনেবল ফ্যাশন বা সহনশীল ফ্যাশন

একবিংশ শতাব্ধি তে মানব সভ্যতার জন্য সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পৃথিবীকে বাস উপযোগী রাখা।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং, বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের অতিরিক্ত মাত্রা, পানীয় জলের অভাব, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ আরও অনেক হুমকি রয়েছে পরিবেশের জন্য। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য সুষম অর্থনৈতিক ব্যাবস্থা গড়ে তোলা আরেক অন্যতম চ্যালেঞ্জ। মানুষের চাহিদা মেটাতে ক্রমাগত বেড়ে উঠা কলাকারখানা শুধু যে পরিবেশের জন্যই হুমকি তা না, বিলুপ্ত করে দিচ্ছে সামাজিক ঐতিহ্য গুলো। শুধু বাংলাদেশের দিকে তাকালেই দেখবেন, পুঁজিবাদী এই সমাজের সাথে টাল মিলাতে গিয়ে হারিয়ে গেছে অনেক প্রাচীন পেশা। আজ তাঁত পল্লিতে তাঁতি নেই… নেই খাঁদির সমাহার।

সচেতন সমাজ এগিয়ে এসেছে, গড়ে উঠেছে নানা রকম পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষা সংগঠন। যেটা হচ্ছে না তা হল কার্যকর উপায় বের করা। সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্র পোশাকে শিল্প আমাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। দেশের অভ্যন্তরীণ পোশাকশিল্পে ও আজ অনেক বড়। রয়েছে হাজার হাজার ফ্যাশন হাউজ, মাল্টি ন্যাশনাল ব্র্যান্ড। পরিবেশ দূষণের কথা বলেই আমরা তা উপক্ষা করতে পারিনা।

এই অবস্থায় একটাই উপায়, তা হল সহনশীল মাত্রায় নিয়ে আসা। লাইফস্টাইল আর ফ্যাশন বিশ্বে বর্তমানে যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি আলোচিত তা হল সাস্টেইনেবল বা সহনশীল ফ্যাশন ।

সাস্টেইনেবল ফ্যাশন বা সহনশীল ফ্যাশন হল দায়িত্বশীল উপায়ে পোশাক বানানো যাতে পরিবেশ,সমাজ এবং অর্থনীতির ক্ষতি না হয়। মূলত পোশাক তৈরির উপাদান গুলোর উৎপাদন থেকে সেই পোশাকের ব্যাবহারবিধী সবই সহনশীল ফ্যাশনের আওতায় পড়ে।
একটি সাস্টেইনেবল বা সহনশীল পোশাক তৈরিতে তিনটি জিনিষ মাথায় রাখতে হবে – এক । সমাজ , দুই । পরিবেশ , তিন । অর্থনীতি

সহনশীল ফ্যাশন বনাম জৈব বা অরগানিক ফ্যাশন।

জৈব বা অরগানিক ফ্যাশন বলতে বুঝায় পোশাককে কৃত্তিম রাসায়নিক উপাদান থেকে নিরাপদ রাখা। এইধরনের পোশাকের উপাদান গুলো পরিবেশবান্ধব উপায়ে উৎপাদন করা হয়। যেমন তৈরি পোশাকটি হবে ১০০% কটন / তুলা, যেটা উৎপাদনে কোন রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হবে না। আবার উৎপাদিত কাপড় রং করার সময়ও ব্যবহার হবে পরিবেশবান্ধব রং।
এই ধরনের পোশাক মানুষের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য উপকারী, কিন্তু পুরপুরি সাস্টেইনেবল / সহনশীল নয়। কারণ এক কেজি কটন উৎপাদনে খরচ হয় ১১,০০০ লিটার পানি । সেই হিসাবে একটি কটনের শার্ট বানাতে লাগে ২৭০০ লিটার পানি। যা একজন সুস্থ মানুষের ৯০০ দিনের খাবার পানি।

কেন আমার সাস্টেইনেবল ফ্যাশন বা সহনশীল ফ্যাশনের দিকে যাবো ?

আসুন কিছু তথ্য দেখি।

বিশ্বে প্রতিবছর 1.2 মিলিওন কাপড় ফেলে দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে মাটির ক্ষয়ের জন্য দায়ী।

বিশ্বের ৯৭ ভাগ পানি নোনা, ৩ ভাগের ২ ভাগ বরফ এবং তুষার, বাকী ১ ভাগের ৩০ % মানুষ পান করে, ৭০% দিয়ে চাষ করে।
এবার পড়ুন, ৪৫ % চাষের পানি ব্যাবহার হয় শুধু কটন/ তুলা উৎপাদনে।
৪১% বৃষ্টির পানি কটন দ্বারা শোষিত হয়।
কটন চাষে ব্যবহারিত সার আর কেমিক্যাল সরাতে দরকার হয় ১৪% পানি।
মোট বব্যাবহারিত কীটনাশকের ২৫% ই ব্যবহার হয় কটন উৎপাদনে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে প্রতি বছর ৩০০০,০০০ মানুষ কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয় আর মারা যায় ২০-৪০,০০০ হাজার মানুষ।

সমাধান ঃ
সমাধান রয়েছে অনেক তার মধ্যে আপ সাইক্লিং – ফেলে দেওয়া বা অব্যাবহারিত কাপড়কে প্রসেস করে নতুন কাপড়ে রূপান্তর করার পদ্ধতি, যা ইতিমধ্যে ফ্যাশন বিশ্বে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

বাকী অংশ পরের পর্বে। সাথেই থাকুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.